Header Ads

  • Breaking News

    গুলশান হামলা: পরিকল্পনাকারী সোহেল মাহফুজ গ্রেফতার


    চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থেকে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার পরিকল্পনাকারী নব্য জেএমবির উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডার সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা মাহফুজসহ চার জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছেন পুলিশ সদস্যরা। অন্যদিকে গাইবান্ধার সাঘাটার দুর্গম চরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৃতীয় দিনের মতো অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান পুলিশ সদস্যরা। এ ছাড়া সাভার পৌরসভার কর্ণপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে নব্য জেএমবির দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছেন ঢাকার কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা। 

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গত শুক্রবার গভীর রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পুশকুনি এলাকায় গোপন বৈঠক করার সময় গুলশানে হলি আর্টিজানে হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ও নব্য জেএমবির উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডার সোহেল মাহফুজসহ (৩৫) চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত অন্য তিনজন হল-নব্য জেএমবির আইটি বিশেষজ্ঞ চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পার্বতীপুর গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে হাফিজুর রহমান হাসান (২৮), জেএমবির অন্যতম সমন্বয়ক চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরমোহনপুর এলাকার ইয়াসিন আলীর ছেলে জামাল (৩৪) ও সামরিক শাখার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্য চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বিশ্বনাথপুর কাটিয়াপাড়া গ্রামের এসলামের ছেলে জুয়েল (২৬)। সোহেল মাহফুজের প্রকৃত নাম আবদুস সবুর খান। পিতার নাম রেজাউল করিম। গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী থানার সাদিপুর কাবলিপাড়ায়। এসব নাম ছাড়াও শাহাদাত্ ওরফে নসরুল্লাহ ওরফে রিমনসহ তার আরও বেশ কিছু ছদ্মনাম রয়েছে বলে জানান পুলিশ সদস্যরা। তার সাংগঠনিক নাম হাতকাটা মাহফুজ। এ নামেই সে পরিচিত। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের সরজন গ্রামে তার শ্বশুরবাড়ি। শ্বশুরের নাম সাদিকুল ইসলাম। এ ছাড়া সে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে অপারেশন ঈগল হান্টে নিহত আবু ও জঙ্গি জুয়েলের শ্বশুরবাড়ির পক্ষের আত্মীয়। 

    পুলিশ সদস্যরা জানান, অভিযানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশকে সহায়তা করেন পুলিশের বিশেষায়িত টিম কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও বগুড়া জেলা পুলিশ সদস্যরা। সবশেষ গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট-চৌডালা সড়কের পুশকুনি এলাকার ফজলুর রহমানের আমবাগানের একটি টংঘরে গোপন বৈঠক করছিল তারা। এই তথ্যের ভিত্তিতে গত শুক্রবার রাত ২টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে সেখানে অভিযান চালান পুলিশ সদস্যরা। সেখানে একটি টংয়ের ঘর থেকে বৈঠকরত অবস্থায় তাদের গ্রেফতার করা হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলাম জানান, শীর্ষ জঙ্গি নেতা সোহেল মাহফুজ গুলশান, রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও তানোর, দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট, নাটোর সদর ও চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ৮টি মামলা রয়েছে। 

    রাজশাহী অফিস জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থেকে গ্রেফতার নব্য জেএমবির উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডার সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা মাহফুজকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলে জঙ্গিদের নেটওয়ার্ক তছনছ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এম খুরশীদ হোসেন। গতকাল দুপুরে তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন। ডিআইজি বলেন, আমরা তাকে দীর্ঘদিন ধরেই টার্গেট করছি। অবশেষে তিন সহযোগীসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থেকে তাকে ধরা হয়েছে। সোহেলকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলে জঙ্গিদের নেটওয়ার্ক তছনছ হয়ে গেল। 

    তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহ করত সোহেল মাহফুজ। বোমা বানাতেও পারদর্শী সে। তার সঙ্গে যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা মূলত জঙ্গিদের বিভিন্ন ধরনের সাপোর্ট দিয়ে থাকে। খুরশীদ হোসেন বলেন, হাতকাটা সোহেল উত্তরাঞ্চলে নব্য জেএমবিকে সংগঠিত করছিল। পুলিশের কাছে তথ্য ছিল-ঈদে এ অঞ্চলে নাশকতার পরিকল্পনা ছিল জঙ্গিদের। তবে পুলিশের তত্পরতায় জঙ্গিরা কোনো অঘটন ঘটাতে পারেনি। সোহেল মাহফুজকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে জঙ্গিরা আরও দুর্বল হয়ে গেল। 

    ডিআইজি জানান, কুষ্টিয়ার বাসিন্দা সোহেল মাহফুজ যেহেতু গুলশান হামলার সঙ্গে জড়িত, সেহেতু তাকে ঢাকায় পুলিশের কাউন্টার টেররিজমের কাছে পাঠানো হয়েছে। আর বাকি তিনজন চাঁপাইনবাবগঞ্জের একাধিক মামলার আসামি, তাই তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আদালতেই তোলা হবে। 

    ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান মনিরুল ইসলাম গতকাল মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জঙ্গি সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা মাহফুজ বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতেও মোস্ট ওয়ান্টেড। ২০১৪ সালে বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণের পর ভারতীয় সরকার তাকে ধরতে ১০ লাখ রুপি পুরস্কার ঘোষণা করে। 

    মনিরুল ইসলাম বলেন, সোহেল মাহফুজ ২০০৬ সালে ভারতে পালিয়ে যায়। ২০০৯ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত সে জেএমবির ভারতীয় শাখার আমির ছিল। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে সে ফের বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এরপর সে পুরনো জেএমবি ছেড়ে নব্য জেএমবিতে যোগ দেয়। 

    তিনি বলেন, গত বছর হলি আর্টিজানে হামলা পরিকল্পনার সময় সে উপস্থিত ছিল। হামলার আগে সে অস্ত্র ও গ্রেনেড নিয়ে আসে। হলি আর্টিজান হামলার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে পুলিশ সোহেল মাহফুজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে। 

    গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, গাইবান্ধার সাঘাটার দুর্গম চরাঞ্চলে জঙ্গির খোঁজে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রেখেছেন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা। গতকাল টানা চতুর্থ দিনেও জঙ্গি ও নৌ-ডাকাত, তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও পরোয়ানাভুক্ত আসামির খোঁজে দুর্গম চরে অভিযান অব্যাহত রেখেছেন কাউন্টার টেররিজম, জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ সদস্যরা। সাঘাটার দীঘলকান্দি চরসহ কয়েকটি চরে গতকাল ভোর ৫টা থেকে শুরু করে সকাল ৮টা পর্যন্ত এ অভিযান চলে। তবে অভিযানে কোনো জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে মোল্লারচর ইউনিয়নের সিধাইল চরের মৃত বাচ্চু মিয়ার ছেলে আইয়ুব আলী ওরফে শুকুর (২৮) নামে এক ডাকাতকে আটক করা হয়। সাভার সংবাদদাতা জানান, গত শুক্রবার রাতে সাভার থেকে মো. আলামিন (২৩) ও মো. আহসান হাবীব (২২) নামে নব্য জেএমবির দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেন কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা। 

    কাউন্টার টেররিজম বিভা?গের সহকা?রী পুলিশ কমিশনার শেখ ইমরান হো?সেন জানান, গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে সাভার পৌরসভার উলাইল কর্ণপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে এদের গ্রেফতার করা হয়। এরা দীর্ঘদিন ধরে সাভার এলাকায় গোপনে নব্য জেএমবির সদস্য সংগ্রহ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। তি?নি জানান, গত ১৭ মে সাভারের গেণ্ডা এলাকায় জঙ্গিদের বিরুদ্ধে যে অভিযান চালানো হয়, জিজ্ঞাসাবাদে ওই জঙ্গিদের সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে গ্রেফতারকৃত দুই জঙ্গি।

    No comments

    Post Top Ad

    ad728

    Post Bottom Ad