Header Ads

  • Breaking News

    পাঁচ বিদেশিতেই ঝুঁকল বিপিএল

    সিংহভাগ ফ্র্যাঞ্চাইজি বিপক্ষে ভোট দিলেও বিপিএলের প্রত্যেক ম্যাচে পাঁচ বিদেশি খেলানোর চেষ্টা অব্যাহত ছিল। সে জন্য একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজিকে পক্ষে টানার চেষ্টার খবরও গোপন ছিল না। এবার জানা গেল সেই চেষ্টা সফলও। গতকাল দুপুরে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল সংবাদ সম্মেলন করে জানাল, ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ঘরোয়া টি-টোয়েন্টির পঞ্চম আসরে ম্যাচপিছু দলগুলোর বিদেশি খেলানোর সর্বোচ্চ সীমা বাড়িয়ে পাঁচজনই করা হয়েছে।
    এর সঙ্গে আরো অনেক কিছু জানানোর যে সংবাদ সম্মেলন, সেটি আবার হয়েছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের প্রধান আফজালুর রহমান সিনহার ব্যক্তিগত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। কিন্তু কেন? তা নিয়ে যেমন প্রশ্ন, তেমনি প্রশ্নবিদ্ধ একাদশে পাঁচ বিদেশি রাখার অনুমোদনও। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যসচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক তবু একটা ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে চাইলেন, ‘এবার দলও বেড়েছে। সব কিছু বিচার-বিশ্লেষণ করেই গভর্নিং কাউন্সিল পাঁচজন বিদেশি খেলানোর অনুমতি দিচ্ছে। ’ এই অনুমতি দেওয়ার জন্য চাপও ছিল বলে দাবি করলেন তিনি, ‘ফ্র্যাঞ্চাইজিদের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল আমাদের। তাদের কাছ থেকে লিখিত মত নিয়েছি। আট ফ্র্যাঞ্চাইজির মধ্যে সাতটিই মত জানিয়েছে। বেশির ভাগই পাঁচজন বিদেশি খেলোয়াড় চেয়েছে। ’
    এখানে তবু একটা সীমা বেঁধে দেওয়া আছে, বিদেশি ক্রিকেটার রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে তাও নেই, ‘বিদেশি খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশনে আমরা কোনো সীমা রাখছি না। যেকোনো দল যেকোনোভাবে যেকোনো সময়ে রেজিস্ট্রেশন করাতে পারবে। সংখ্যাটাও আমরা উন্মুক্ত রাখছি। আনলিমিটেড। ’ এঁদের মধ্যে অন্তত দুজনকে কিনতে হবে প্লেয়ার্স ড্রাফট বা নিলাম থেকে। আর নিলাম থেকে স্থানীয় ক্রিকেটার কেনার বেঁধে দেওয়া সংখ্যাটা ১৩ জনের। কম  বিদেশি খেলানোর সুযোগও রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মল্লিক, ‘কোনো দল যদি মনে করে তাঁরা পাঁচজন বিদেশি খেলাবে না, সে ক্ষেত্রে তিনজনও খেলাতে পারে। সর্বনিম্ন তিনজন খেলাতেই হবে, সর্বোচ্চ পাঁচজন। ’
    বিদেশি খেলোয়াড় যেমন বাড়ছে, তেমনি বেড়েছে ‘আইকন’ ক্রিকেটারও। মুস্তাফিজুর রহমান যে এই ক্যাটাগরির অষ্টম ক্রিকেটার হতে চলেছেন, সেটি একরকম নিশ্চিতই ছিল। কাল শুধু এলো আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটা। মাশরাফি বিন মর্তুজা, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মাহমুদ উল্লাহ, সৌম্য সরকার ও সাব্বির রহমানের মতো ‘কাটার মাস্টার’ও ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে দরকষাকষি করে নিজের মূল্য যথাসম্ভব বাড়িয়ে নেওয়ার স্বাধীনতা পাচ্ছেন। কিন্তু এই আটজনের বাইরে অন্যদের সেই স্বাধীনতা নেই। এমনকি অন্যান্য ক্যাটাগরির ক্রিকেটারদের মূল্য গত আসরে যা ছিল, এবারও তাই থাকছে। এই দুই শ্রেণির ক্রিকেটারদের মধ্যে পার্থক্য আছে আরেকটিও। সেটি ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছ থেকে তাঁদের পারিশ্রমিকের টাকা বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের আদায় করে দেওয়ার এবং না দেওয়ার। সদস্যসচিব সে বিষয়টিই খোলাসা করছিলেন এভাবে, ‘গত বছর জাতীয় দলের সিনিয়র ক্রিকেটাররা বোর্ড সভাপতির সঙ্গে দেখা করে তাঁদের ইচ্ছেমতো দল বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা চেয়েছিলেন। মূল্য নির্ধারণ না করে তাই তাঁদের আর্থিকভাবে আরো লাভবান হওয়ার সুযোগটা দেওয়াও হয়। মূল্যটা যেহেতু আমরা নির্ধারণ করে দিইনি, সে জন্য আইকনদের টাকা আদায় করে দেওয়ার দায়িত্বও আমরা নিচ্ছি না। ’ তবে অন্যদের ক্ষেত্রে সেই নিশ্চয়তা আছে, ‘যাঁদের মূল্য নির্ধারিত এবং ড্রাফটের মাধ্যমে বিক্রি হবে, তাঁদের পারিশ্রমিকের টাকা নিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব আমরা নেব।
    অন্যান্য ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকের অঙ্ক আগের মতোই রেখে দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যায় তিনি বললেন, ‘আমাদের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়েও তো চিন্তা করতে হবে। পারিশ্রমিক বাড়ালে যদি বিপিএল আবার প্রথম দুই আসরের মতো হয়ে যায়? ফ্র্যাঞ্চাইজি দিচ্ছে না, এ রকম হওয়ার চেয়ে টুর্নামেন্টটা টিকে থাক এবং ভালোমতো চলুক। ’
    এবার দল একটি বাড়ায় টুর্নামেন্টের স্থায়িত্বও বেড়ে যাচ্ছে, ওদিকে আবার দক্ষিণ আফ্রিকার গ্লোবাল টি-টোয়েন্টি এবং অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগের সঙ্গে যাতে খুব বেশি সাংঘর্ষিক না হয়ে ওঠে বিপিএল, তাই ৪ নভেম্বর থেকে এগিয়ে ২ তারিখে আসর শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার সানোয়ার হোসেনকে এই আসরেও কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে না দেওয়ার। গত আসরে ভিন্ন মালিকানায় থাকা রংপুর রাইডার্সের এ ম্যানেজারের বিরুদ্ধে ম্যাচ পাতানোয় জড়িত থাকার অভিযোগ করেছিলেন একই দলের ক্রিকেটার জুপিটার ঘোষ। এর নিশ্চিত কোনো প্রমাণ না থাকার পরেও ‘বিতর্কিত’ সানোয়ারকে নিষিদ্ধ রাখার কারণ মল্লিকের ভাষায়, ‘বিপিএলের প্রথম আসরেও তিনি একটি দলের ম্যানেজার ছিলেন। তখনো ওনার বিরুদ্ধে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ উঠেছিল। আমরা চাই না বিতর্কিত কেউ বিপিএলের সঙ্গে থাকুক। ’

    No comments

    Post Top Ad

    ad728

    Post Bottom Ad