Header Ads

  • Breaking News

    পার্বত্য ৩ জেলায় আসন হবে ২৭, ঢাকায় ৩


    নির্বাচন কমিশন এবারই প্রথম জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকাগুলোর সীমানা পুনর্নির্ধারণে ভোটার সংখ্যার পাশাপাশি আয়তন বিবেচনায় নিতে আগ্রহী। এ বিষয়ে ঘোষিত রোডম্যাপ বা কর্মপরিকল্পনায় কমিশনের বক্তব্য, ‘সীমানা নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় শুধু জনসংখ্যার ওপর ভিত্তি না করে ভোটার সংখ্যা এবং সংসদীয় এলাকার আয়তন বিবেচনায় নেওয়ার জন্য আইনি কাঠামোতে সংস্কার আনা প্রয়োজন। ’ কিন্তু কমিশনের অধীন নির্বাচন কর্মকর্তারাই বলছেন, জনসংখ্যার সঙ্গে ভোটার সংখ্যার প্রায় সমানুপাতিক একটি অবস্থান থাকলেও আয়তনের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেশের সব এলাকার জনঘনত্ব এক রকম নয়। প্রতি বর্গকিলোমিটারে ঢাকা জেলার জনঘনত্ব যেখানে আট হাজার ২২৯ সেখানে বান্দরবানের জনঘনত্ব মাত্র ৬৭ জন। চার হাজার ৪৭৯ দশমিক ০৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পার্বত্য জেলায় ভোটার মাত্র দুই লাখ ৪১ হাজার ৪৩। আর এক হাজার ৪৬৩ দশমিক ৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ঢাকা জেলার ভোটার ৭৫ লাখ ৫৯ হাজার ৬১৬ জন। এই বাস্তবতা সত্ত্বেও আয়তনকে বিবেচনায় নিলে এক লাখ ৪৭ হাজার ৬১০ বর্গকিলোমিটারের বাংলাদেশে প্রতি ৪৯১ বর্গকিলোমিটার এলাকার জন্য একটি আসন হিসেবে মোট ১৩ হাজার ২৯৪ দশমিক ৭২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের তিন পার্বত্য জেলায় তিনটি আসনের বদলে ২৭টি আসন দিতে হয়। আর ঢাকা জেলার প্রাপ্য হয় ২০টি আসনের বদলে মাত্র তিনটি।
    বিদ্যমান সীমানায় মাত্র ৬৮৩ দশমিক ১১ বর্গকিলোমিটার এলাকার নারায়ণগঞ্জের আসন পাঁচটি। কিন্তু এক হাজার চার বর্গকিলোমিটার আয়তনের মুন্সীগঞ্জের আসন মাত্র  তিনটি। এক হাজার ৭৭০ দশমিক ৫৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনের গাজীপুর জেলার আসন পাঁচটি হলেও তিন হাজার ৮৫৮ বর্গকিলোমিটার এলাকার সাতক্ষীরার আসন মাত্র তিনটি। এসব ক্ষেত্রে জনঘনত্বকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
    এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তার বক্তব্য, আয়তনকে বিবেচনায় নিয়ে সীমানা পুনর্নির্ধারণ নির্বাচন কমিশনের ‘আকাশ-কুসুম’ কল্পনা। এটি সব এলাকার জন্য প্রযোজ্য হতে পারে না। আবার কোথাও জনসংখ্যা বা ভোটার সংখ্যা, আবার কোথাও আয়তন বিবেচনায় নিতে গেলে তা দ্বিমুখী নীতি হিসেবে ব্যাপক বিতর্ক ও বিরোধিতার জন্ম দিতে পারে।
    এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বেগম কবিতা খানম গতকাল শনিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, কমিশন গ্রামাঞ্চলকে বঞ্চিত করে নগর এলাকার আসন আর বাড়াতে চায় না। এ কারণেই সীমানা নির্ধারণে বিদ্যমান আইনে উল্লিখিত আঞ্চলিক অখণ্ডতাভিত্তিক প্রশাসনিক সুবিধা ও জনসংখ্যার সঙ্গে ভোটার সংখ্যা ও আয়তনও বিবেচনায় নিতে আগ্রহী। এ বিষয়ে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, সুধীসমাজ ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণের পর কমিশন আইন সংস্কারের প্রস্তাব রাখবে।
    নির্বাচন কমিশনের বিদায়ী সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, কমিশনের এ প্রস্তাব নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক হতে পারে। আবার এ প্রস্তাব অনুযায়ী আইন সংস্কারে সরকার সম্মত হবে কি না, সেটাও দেখার বিষয়।
    প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনের আগে ২০০১ সালের আদমশুমারির প্রতিবেদন অনুসারে জনসংখ্যার ভিত্তিতে ড. এ টি এম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন ইসি ব্যাপকভাবে সীমানা পুনর্বিন্যাস করে। নির্বাচন কমিশন তখন এই নীতি গ্রহণ করে যে কোনো জেলার আসনসংখ্যা দুটির কম হবে না। প্রতি তিন লাখের কাছাকাছি জনসংখ্যার জন্য একটি করে আসন নির্ধারিত হয়। তিন পার্বত্য জেলাকে বিশেষ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে এই নীতির বাইরে রাখা হয়। সে সময় ৩৩ জেলার ১২৫টি নির্বাচনী এলাকার পরিবর্তন ঘটে। ঢাকায় ১৩টি থেকে আসন হয় ২০টি। কাজী রকিবের কমিশন সর্বশেষ আদমশুমারির প্রতিবেদন অনুযায়ী জনসংখ্যাকে বিবেচনায় না নিয়েই ১৯ জেলার ৫৩ সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে। ঢাকায় দুটি নির্বাচনী এলাকার আংশিক পরিবর্তন ঘটানো হয়। ২০০৮ সালে নির্ধারিত সীমানা অপরিবর্তিত থাকে বাকি ৪৫টি জেলার ২৪৭টি আসনের ক্ষেত্রে।
    জেলাভিত্তিক আসনসংখ্যায় এ যাবৎ পরিবর্তন : ১৯৭৩ সালে বৃহত্তর খুলনার (খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট) ছিল ১৪টি আসন। ১৯৭৬ সালে একটি বাড়িয়ে ১৫টি করা হয়। বৃহত্তর পটুয়াখালী জেলার (পটুয়াখালী ও বরগুনা) আসন ছিল সাতটি। ১৯৭৯ সালে একটি কমিয়ে ছয়টি করা হয়। বৃহত্তম বরিশাল জেলায় [ভোলা, বরিশাল (বাকেরগঞ্জ), ঝালকাঠি ও পিরোজপুর] ১৯৭৩ সালে আসন ছিল ১৮টি। ১৯৭৯ সালে একটি কমিয়ে ১৭টি করা হয়। এরপর ১৯৮৬ সালে আরো একটি কমিয়ে করা হয় ১৬টি। বৃহত্তর ঢাকা জেলায় (ঢাকা, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ) ১৯৭৩ সালে আসন ছিল ৩০টি। ১৯৭৯ সালে দুটি এবং ১৯৮৬ সালে আরো তিনটি বাড়িয়ে ৩৫টিতে উন্নীত করা হয়। বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার (ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর) আসন ছিল ১৯৭৩ সালে ১৯টি। ১৯৭৯ সালে দুটি এবং ১৯৮৬ সালে আরো একটি আসন কমিয়ে ১৬টি করা হয়। বৃহত্তম টাঙ্গাইল জেলার (এ জেলাটি ভেঙে নতুন কোনো জেলা হয়নি) আসন ছিল ১৯৭৩ সালে ৯টি। ১৯৭৯ সালে একটি কমিয়ে আটটি করা হয়। বৃহত্তর ময়মনসিংহের (ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনা) ১৯৭৩ সালে আসন ছিল ৩২টি। ১৯৭৯ সালে একটি কমিয়ে ৩১টি করা হয়। বৃহত্তর সিলেট জেলার (সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ) ১৯৭৩ সালে আসন ছিল ২১টি। ১৯৭৯ সালে কমানো হয় একটি এবং ১৯৮৬ সালে আরো একটি কমিয়ে ১৯টি করা হয়। বৃহত্তর কুমিল্লা জেলায় (কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ও চাঁদপুর) ১৯৭৩ সালে আসন ছিল ২৬টি। ১৯৭৯ সালে দুটি কমিয়ে ২৪টি করা হয়। বৃহত্তর নোয়াখালীর (নোয়াখালী, ফেণী ও লক্ষ্মীপুর) আসন ছিল ১৯৭৩ সালে ১৪টি। ১৯৮৬ সালে একটি কমিয়ে ১৩টি করা হয়। বৃহত্তর চট্টগ্রামের (চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার,) আসন ছিল ১৮টি। ১৯৮৬ সালে একটি বাড়িয়ে ১৯টি করা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে (খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান) আসন ছিল দুটি। ১৯৮৬ সালে তিনটি করা হয়।
    দেশের ১৯টি জেলাকে বিভক্ত করে ৬৪টি জেলায় উন্নীত করার পর সাতক্ষীরা জেলার আসন ছিল পাঁচটি। ২০০৮ সালে একটি কমে চারটি আসন হয়। ২০০৮ সালে আসন কমে আরো ১০টি জেলার। সিরাজগঞ্জের একটি আসন কমিয়ে ছয়টি করা হয়। বরগুনার আসন ছিল তিনটি। একটি কমিয়ে দুটি করা হয়। ১৯৯১ সালে বরিশালের আসন ছিল সাড়ে ছয়টি। এটি কমিয়ে ছয়টি করা হয়। পিরোজপুরের আসন ছিল ১৯৮৬ সালে চারটি। ১৯৯১ সালে করা হয় সাড়ে চারটি। এরপর ২০০৮ সালে কমিয়ে তিনটি করা হয়। মানিকগঞ্জে আসন ছিল চারটি। ২০০৮ সালে কমিয়ে তিনটি করা হয়। মুন্সীগঞ্জেও আসন ছিল চারটি। ২০০৮ সালে এ জেলা থেকেও একটি আসন কমিয়ে তিনটি করা হয়। ফরিদপুর জেলার আসন ছিল পাঁচটি। ২০০৮ সালে কমিয়ে চারটি করা হয়। ময়মনসিংহ জেলার আসন ছিল সাড়ে ১১টি। ২০০৮ সালে কমিয়ে ১১টি করা হয়। কিশোরগঞ্জ জেলার আসন ছিল সাতটি। ২০০৮ সালে কমিয়ে করা হয় ছয়টি। কুমিল্লার আসন ছিল ১২টি। করা হয় ১১টি।
    এ ছাড়া ২০০৮ সালে পাঁচটি জেলার আসন বাড়ানো হয়। রাজশাহী জেলার আসন ছিল পাঁচটি। এ জেলার একটি আসন বাড়িয়ে ছয়টি করা হয়। ঢাকা জেলার আসন ছিল ১৩টি। সাতটি বাড়িয়ে করা হয় ২০টি। গাজীপুর জেলার আসন ছিল চারটি। একটি বাড়িয়ে করা হয় পাঁচটি। নেত্রকোনা জেলার আসন ছিল সাড়ে চারটি। করা হয় পাঁচটি। চট্টগ্রামের আসন ছিল ১৫টি। একটি বাড়িয়ে করা হয় ১৬টি।

    No comments

    Post Top Ad

    ad728

    Post Bottom Ad