Header Ads

  • Breaking News

    দোয়া করার ফজিলত ও বৈশিষ্ট্য

    Daily_Sangbad_Pratidin_islam_doya.jpg
    দোয়া করার ফজিলত ও বৈশিষ্ট্য
    দোয়া শব্দের অর্থ আল্লাহকে ডাকা, কিছু চাওয়া, প্রার্থনা করা অর্থাৎ বিনয়ের সঙ্গে মহান আল্লাহর কাছে কল্যাণ ও উপকার লাভের উদ্দেশ্যে এবং ক্ষতি ও অপকার থেকে বেঁচে থাকার জন্য প্রার্থনা করাই হল দোয়া।

    এই দোয়াকে আল্লাহ ইবাদত হিসেবে অভিহীত করেছেন এবং সাহায্য লাভের মাধ্যম বানিয়েছেন। তাইতো কুরআন ও হাদীছে নববী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমে মানুষকে দোয়ার বিষয়ে নির্দেশ তথা তাক্বীদ দিয়েছেন।

    আল্লাহ বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিব, যারা আমার ইবাদতে অহংকার করে তারা অচিরেই জাহান্নামে প্রবেশ করবে লাঞ্ছিত হবে। (সুরা মু’মিন আয়াত-৬০)

    নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, দোয়া-ই ইবাদত। (জামে আত তিরমিজি)

    তাইতো আল্লাহর মুখাপেক্ষী হওয়া এবং তার নৈকট্য লাভ করা ব্যতীত মানুষের কোন উপায় নেই, আর দু’আ হল আল্লাহর নৈকট্যলাভের বিশেষ বাহন ও মাধ্যম। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা, প্রত্যাশা ও সাহায্য কামনার মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর নিকটবর্তী হয়। এ দ্বারা মানুষ তার প্রতিপালকের ইবাদত করে, উদ্দেশ্যে লাভে সফল হয়, তার সন্তুষ্টি অর্জন করে।

    সুতরাং আমাদের দৈনন্দিন জীবন, নামাজ-রোজা, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিপদ-মুসিবত, সৎ চাওয়া-পাওয়া তথা আমলী জিন্দেগীসহ বিভিন্ন বিষয়ের বিভিন্ন দিকের আমল, দু’আ ও ফজিলতের বিষয়াবলী ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরব। ইনশাআল্লাহ।

    আজকে আমরা দোয়ার কিছু নিয়ম-কানুন নিয়ে আলোচনা করব... 

    রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন , কোনো মুসলিম ব্যক্তি যদি আল্লাহর নিকট দোয়া করে এবং সে দোয়া’র মধ্যে পাপ অর্থাৎ অসৎ উদ্দেশ্য এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার প্রসঙ্গ না থাকে, তবে আল্লাহ তাআলা উক্ত দোয়া’র বিনিময়ে ঐ ব্যক্তিকে তিনটি প্রতিদানের যে কোনো একটি দান করেন।

    ১। ঐ ব্যক্তির দোয়া আল্লাহ দ্রুত কবুল করেন;
    ২। তার প্রতিদান আখেরাতে প্রদানের জন্য জমা রাখেন; অথবা
    ৩। তার থেকে অনুরূপ আরেকটি কষ্ট বা সমস্য দুরীভ‚ত করেন। এ প্রতিদানের কথাগুলো শুনে ছাহাবায়ে কেরাম বললেন, তাহ’লে আমরা বেশী বেশী দু’আ করব। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলরেন, আল্লাহ আরও বেশী দু’আ কবুলকারী। (মুসনাদে আহমদ/মিশকাত)

    দোয়ার কতিপয় ফজিলত, উপকারিত ও বৈশিষ্ট... 

    ১। দু’আকারী ব্যক্তি নিজেকে অপরাধী স্বীকার করে বিশুদ্ধ নিয়তে দু’আর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য ও পুরস্কার প্রাপ্ত হয়। নিয়তের বিশুদ্ধতাই প্রত্যেকটি কাজ কবুলের পূর্বশর্ত।

    ২। দু’আর মধ্যে রয়েছে স্রষ্টার আনুগত্য ও হীনতা-দীনতার প্রকাশ। মহান আল্লাহ সুরা আ’রাফের ৫৫ ও ৫৬ নং আয়াতে বলেন, তোমরা স্বীয় প্রতিপালককে ডাক কাকুতি মিনতি করে এবং অতিগোপনে। তিনি সীমা অতিক্রমকারীদের পছন্দ করেন না। পৃথিবীকে কুসংস্কারমুক্ত ও ঠিক করার পর তাতে ফাসাদ সৃষ্টি করো না। তাকে ডাক, ভয় ও আশা সহকারে। নিশ্চয় আল্লাহর দয়া/করুনা সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী।

    ৩। ইখলাছ তথা একাগ্রতার সঙ্গে আল্লাহ ডাক। আল্লাহ বলেন, তিনি চিরঞ্জীব, তিনি ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই। অতএব তাকে ডাক একনিষ্ট ইবাদতের মাধ্যম (সুরা মু’মিন আয়াত-৬৬)

    ৪। ধৈর্য এবং নামাযের মাধ্যমে আল্লাহর সুন্দরতম নামের উসিলায় বিনয়ে সহিত নীরবে দু’আ করা। আল্লাহ বলেন, তোমরা নামাজ এবং ধৈর্যের মাধ্যমে আমার কাছে সাহায্য চাও।

    ৫। অযুর করে ক্বিবলামুখী হয়ে নেক আমলের মাধ্যমে দু’আ করা এবং দু’আ কবুলের জন্য ব্যস্ত না হওয়া।

    ৬। দু’আর আবেদনের পাশাপাশি হারাম খাদ্য, পানীয়, বস্ত্র বর্জন করে দু’রাকা’আত নামাজের পর আল্লাহর প্রশংসা এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দুরূদ পড়ে দু’আ করা।

    ৭। সংকল্প ও আকুতির মাধ্যমে দু’আ কবুলের প্রবল আশাবাদী হওয়া। হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যখন তোমরা দু’আ করবে তখন প্রার্থিত বিষয়টি লাভের বিষয়ে সুদৃঢ় বিশ্বাস রাখবে এবং বলবে হে আল্লাহ! যদি তুমি চাও আমাকে প্রদান কর, কেননা আল্লাহকে বাধ্যকারী কেউ নেই। (ছহীহ বুখারী)

    কখন কোথায় কিভাবে দোয়া বা প্রার্থনা করলে দোয়া কবুল হয়... 

    ১। নামাজের সিজদায় এবং শেষ বৈঠকে তাশাহহুদের (আত্তাহিয়াতু) পর
    ২। আযানের সময়, আযান ও ইক্বামতের মধ্যবর্তী সময়
    ৩। নিরাপরাধ ব্যক্তি অত্যাচারিত হওয়ার সময়
    ৪। জুমা’আর দিনে ইমামের মিম্বরে বসা হতে নামাজ শেষ করার পর্যন্ত সময়
    ৫। শেষ রাতে এবং ফরয নামাজের পর
    ৬। রমযান মাস
    ৭। পবিত্র ক্বদরের রাত্রিতে
    ৮। সফরের সময়
    ৯। হজের সময়
    ১০। আরাফাতের দিন
    ১১। পবিত্র কা’বা শরীফ তাওয়াফের সময়
    ১২। সাফা ও মারওয়া সায়ী করার সময়
    ১৩। আল্লাহর কাছে অত্যন্ত নিীতভাবে ধর্না দেয়া এবং নিজের দুর্বলতা, অসহায়ত্ব ও বিপদের কথা আল্লাহর কাছে প্রকাশ করা।
    ১৪। পবিত্রাবস্থায় কেবলামুখী হয়ে হাত তুলে দু’আ করা । এবং দু’আর শুরু ও শেষে আল্লাহর প্রশংসা এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামে ওপর সালাত ও ছালাম প্রদান করা।

    আল্লাহ আমাদের তাঁর শেখানো ভাষা ও নিয়মে, দুনিয়া ও আখেরাতে কল্যাণে লাভে আশ্রয় প্রার্থণা করার তৌফিক দান করুন আমীন। ছুম্মা আমীন।
    বিজ্ঞাপন

    No comments

    Post Top Ad

    ad728

    Post Bottom Ad