Header Ads

Surfe.be - Banner advertising service
  • Breaking News

    রূপনগর বেড়িবাঁধে এএসপির লাশ


    রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে হাইওয়ে পুলিশের সাভার সার্কেলের এএসপি মিজানুর রহমান তালুকদারের (৫৫) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    বুধবার সকালে স্থানীয়রা লাশটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। তার গলায় কাপড় পেঁচানো ও মুখে রক্তাক্ত জখমের চিহ্ন ছিল। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, ছিনতাইকারী বা অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের হাতে খুন হয়েছেন তিনি।


    হাইওয়ে পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আতিকুল ইসলাম বলেন, 'সেহরি শেষে উত্তরার বাসা থেকে মিজানুর রহমান কর্মস্থল সাভারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন। সকালে তার লাশ পাওয়া যায়। কারা, কেন তাকে হত্যা করেছে— তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। থানা পুলিশ হত্যারহস্য উদ্ঘাটনে কাজ করছে।'



    ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার কামাল হোসেন জানান, উত্তরা-৫ নম্বর সেক্টরের ৩ নম্বর সড়কের ৩৮ নম্বর বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন মিজানুর রহমান। বুধবার আনুমানিক ভোর ৫টার দিকে তিনি বাসা থেকে বের হন। পরে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রূপনগর বেড়িবাঁধ এলাকায় তার লাশ পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে তার দুটি মোবাইল ফোন ও ব্যাগে ব্যক্তিগত গাড়ির চাবিও পাওয়া গেছে; তবে তার মানিব্যাগ পাওয়া যায়নি।



    রূপনগর থানার ওসি সৈয়দ শহীদ আলম বলেন, 'অন্য কোথাও তাকে হত্যার পর দুর্বৃত্তরা বেড়িবাঁধ এলাকায় তার লাশ ফেলে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।'



    রূপনগর থানা পুলিশ জানায়, সাভারের বিরুলিয়া ও রূপনগরের সীমান্তবর্তী মিরপুর-আশুলিয়া বেড়িবাঁধের ঢাকা বোট ক্লাব এলাকার রাস্তার পাশে ঝোপের ভেতর মিজানুর রহমানের লাশ পাওয়া যায়। তার পরনে ছিল পুলিশের প্যান্ট। শরীরের ওপরের অংশে ছিল লাল রঙের হাফ শার্ট। তার সঙ্গে থাকা ব্যাগে পুলিশ ইউনিফর্মের শার্টটি পাওয়া গেছে। মিজানুর রহমানের জন্য দাপ্তরিক কোনো গাড়ি বরাদ্দ ছিল না। তিনি নিজের প্রাইভেট কারে যাতায়াত করতেন। তবে বুধবার কোনো কারণে তিনি গাড়ি নিয়ে বের হননি।



    পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, মিজানুর রহমানের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার আলিভুখা এলাকায়। তার দুই ছেলে-মেয়ে। মেয়ে সুমাইয়া উত্তরার একটি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে এবং ছেলে মুশফিক প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। মিজানুর রহমান ১৯৮৯ সালে এসআই হিসেবে পুলিশে যোগ দেন। এএসপি হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার আগে তিনি মানিকগঞ্জের ঘিওর থানায় ওসির দায়িত্ব পালন করেন।



    নিহতের ভাই মাসুম সাংবাদিকদের বলেন, 'ভোরে বাসা থেকে বের হওয়ার পর পরিবারের কারও সঙ্গে তার আর যোগাযোগ হয়নি। তার দুটি মোবাইল ফোনই বন্ধ পাওয়া গেছে। পরে পুলিশের মাধ্যমে লাশ পাওয়ার খবর জানা যায়।'



    ভাগ্নে শামীম শেখ সাংবাদিকদের জানান, হত্যার কারণ সম্পর্কে তারা কোনো ধারণা করতে পারছেন না।



    পুলিশের একটি সূত্র বলছে, লাশ উদ্ধারের পর তার স্ত্রী বা সন্তান ঘটনাস্থলে যাননি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার কোনো ঝামেলা ছিল কি-না, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



    পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবার গাজীপুরের টঙ্গীতে হাইওয়ে পুলিশের এসপির কার্যালয়ে একটি বৈঠক ছিল। বৈঠক শেষে তিনি রাতে উত্তরার বাসায় ফেরেন। ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আশুলিয়ায় ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এসব পরিদর্শনে যাওয়ার কথা। মিজানুর রহমান সম্ভবত সেসব কর্মকাণ্ড তদারকির উদ্দেশ্যেই ভোরে বাসা থেকে বের হন।



    হাইওয়ে পুলিশের এসপি শফিকুল ইসলাম জানান, মিজানুর রহমান তিনটি হাইওয়ে থানা ও দুটি পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বে ছিলেন। নিহতের ভাই বাদী হয়ে রূপনগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।



    এদিকে, সকালে এএসপি মিজানুরের লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সিআইডিসহ বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে হত্যার আলামত সংগ্রহ করেন। - সংগৃহীত

    No comments

    Post Top Ad

    Surfe.be - Banner advertising service

    Post Bottom Ad