Header Ads

Surfe.be - Banner advertising service
  • Breaking News

    'ধর্ষণে ব্যর্থ হয়েই লিজাকে হত্যা'


    "ধর্ষণের উদ্দেশ্যে লিজাকে অপহরণ করা হয়। এতে ব্যর্থ হয়ে শ্বাসরোধ করে লিজাকে হত্যা করা হয়েছে। কিডনি লিভারসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গহানির ব্যাপারে অধিকতর তদন্ত করা হচ্ছে। " আজ সোমবার বেলা ১টার দিকে  পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার এহসান শাহ এসব কথা বলেন।
    অভিযুক্ত ফরিদ শেখের দেওয়া তথ্যের বরাদ দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, লিজা নিখোঁজ হওয়ার দিন থেকে মামলার প্রধান আসামি সরদারকান্দি গ্রামের ছামেদ শেখের ছেলে ফরিদ শেখ এলাকায়  ছিলেন  না। লিজার পরিবারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফরিদকে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে লিজাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন ফরিদ।
    পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী জিজ্ঞাসাবাদে ফরিদ আরও জানান, একই গ্রামের জাকির হোসেন শেখ (লিজার চাচাত ভাই) লিজাকে তার কাছে এনে দেওয়ার জন্য তারই আত্মীয় ফরিদ শেখকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিলে টাকার লোভে ফরিদ শেখ ওইদিন লিজাকে কৌশলে জাকির শেখের কাছে জাকির শেখের মামা আলাউদ্দিন শেখের একটি বাড়িতে পরিত্যক্ত ঘরে  নিয়ে যান। সেখানে দিনের বেলায় কোনও লোক থাকে না। ওই সময় জাকির লিজাকে কুপ্রস্তাব দিলে সে রাজী না হওয়ায় জাকির ও ফরিদ মিলে লিজাকে গলাটিপে হত্যা করে জাকির শেখের মামার বাড়ির পরিত্যক্ত ঘরের খাটের নিচে কাঁথা দিয়ে লাশ ঢেকে রাখেন।
    এরপর তারা দুইজন তাদের স্বাভাবিক কাজকর্ম করেন। ওই রাতে তাদের সুবিধামতো সময় জাকির ও ফরিদ একটি ভ্যানে করে বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে পার্শ্ববর্তী ছৈয়াল কান্দি বুলবুল সরদারের পাটক্ষেতের পাশে পানিতে লিজার লাশ ফেলে যান। এরপর তারা ঢাকায় চলে যান। কয়েকদিন পর আবার বাড়ি ফিরে আসেন তারা।
    ঘটনার দিন লিজা সন্ধ্যায় বাড়িতে না ফেরার পর তার বাবা -মা অনেক খোঁজাখুঁজি করেন। পরদিন ১৬ জুলাই সখিপুর থানায় একটি সাধারণ  ডায়েরি করেন তিনি।
    নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে লিজার বাবা-মা ফরিদ শেখকে একটু সন্দেহের চোখে দেখেন। তাদের ধারণা ছিল ফরিদ তার মেয়েকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ চলে গেছেন। কেননা ফরিদ মাঝে মধ্যে লিজাকে টাকা পয়সা দিতেন এবং ওর সঙ্গে কথাবার্তা বলতেন।
    নিখোঁজের আট দিন পর ২২ জুলাই সকালে ছৈয়ালকান্দি পাটক্ষেতের পাশে স্থানীয় লোকজন ভাসমান অবস্থায় লিজার অর্ধগলিত লাশ দেখতে পায়। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে লিজার চাচি নাছরিন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরনের জামা কাপড় দেখে লাশ শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ  লাশটি উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তা শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
    ময়নাতদন্তকালে কর্তব্যরত চিকিৎসক লিজার মৃতদেহে লিভার, কিডনি, পাকস্থলীসহ গুরুত্বপূর্ণ অর্গান পায়নি। এতে ভিন্নভাবে সন্দেহ  সৃষ্টি হয়। তিন দিন পর রবিবার গভীর রাতে লিজার বাবা লেহাজ উদ্দিন শেখ বাদী হয়ে সখিপুর থানায় দুইজনকে আসামি করে মামলা করে। এরপর পুলিশ সন্দেহাতীতভাবে দুই প্রতিবেশী জাকির হোসেন শেখ ও ফরিদ শেখকে গ্রেপ্তার করেছে। আটক জাকির শেখ ও ফরিদ শেখকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
    পুলিশ সুপার মো. এহসান শাহ বলেন, "লিজার বাবা-মার সন্দেহ ও গোপন তদন্তের ভিত্তিতে ফরিদ শেখকে আটক করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর জাকির শেখের সহায়তায় লিজাকে হত্যা করা হয়েছে  বলে স্বীকার করেছেন। পরে জাকির শেখকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গহানির বিষয়টি মাথায় রেখেই মামলার অধিকতর তদন্ত চলছে।
    উল্লেখ্য, ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর সরদারকান্দি গ্রামের লেহাজ উদ্দিন শেখের মেয়ে লিজা আক্তার ১ নম্বর সখিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৫ জুলাই থেকে নিখোঁজ ছিল সে। নিখোঁজের আট দিন পর ২২ জুলাই সকালে ছৈয়ালকান্দি পাটক্ষেতের পাশ থেকে তার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।

    No comments

    Post Top Ad

    Surfe.be - Banner advertising service

    Post Bottom Ad